
কমলাপুর থেকে মিরপুর 'DOHS' যাবো, সিএনজি ৪০০ টাকার কমে যাবেই না। এই চাচা আইসা বলে আমার রিক্সায় চলেন,২৫০ টাকা দিয়েন। জিগাইলাম কাকা 'DOHS' অনেক দূর, রিক্সা নিয়ে যেতে পারবেন না। বলে টাকার অনেক দরকার,মেয়ের 'HSC' পরিক্ষা সামনে। উনি পারবেন, দূর সমস্যা না। আমারো হাতে অনেক সময়, ভাবলাম রিক্সায় চলে যাই, টাইম কাটবে। কিছুক্ষণ পর জিগাসা করলাম কাকা ছেলেমেয়ে কয়জন, কি করে তারা, টাকার এতো দরকার কেন ? বলে বড় মেয়ে মাস্টার্স শেষ করে এখন সরকারি চাকরি করে, বড় ছেলে খুলনা বিএন কলেজে মাস্টার্স করছে। আর ছোট ছেলেকে ঢাকা পলাশীতে এক ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তি করাইছি। নাম জিগাসা করলাম কলেজের। বলে কাকা, সবাই বলে খুব ভালো কলেজ। দেশের মদ্ধে সবচেয়ে ভালো। বললাম বুয়েট নাকি? বলল জি কাকা, এমনি নাম। সাব্জেক্ট জিগাইলাম, বলতে পারে না। ইংলিশ খুব কঠিন একটা নাম, মনে রাখতে পারে না। ওনার কথা শুনছিলাম আর অবাক হচ্ছিলাম বারবার। উনি এবার নিজ থেকেই বলতে লাগলো, মেয়ে ইন্টার দিবে, খুব শখ মেয়ে ডাক্তার হবে। এবং খুব কনফিডেন্ট সে, তার মেয়ে ডাক্তার হবেই। মাঝে অনেক কিছুই বলল, কিভাবে পড়াশুনা করাইসে, টাকা পয়সা সবকিছুই কথা। বড় মেয়ে টাকা পাঠায় এখন প্রতি মাসে,তাও সে রিক্সা চালানো ছাড়বে না। বললাম ছেলে বুয়েটে পড়ে, কয়দিন পর আর কষ্ট থাকবে না ওনার, রিক্সা চালানো লাগবে না। এই কথা শুনার পর মোটামুটি রাগ করেই বললেন, যতো দিন বাঁচবে রিক্সা উনি চালাবেই। এই রিক্সাই তার সব, এটা দিয়েই ছেলেমেয়েদের পড়াশুনা করাছি । পাক্কা ২ ঘন্টা ওনার কথা শুনছি, আর বরাবরের মতো নিজেকে খুব গুনাগার মনে হইসে। কি করলাম এই জিবনে? মাঝে কাকা সহ চা খাইলাম, সে বিল দিতে দে না। অনেক জোরাজুরি করে চায়ের বিল দিলাম। বাসায় আসার পর ৫০ টাকা বাড়াই দিতে চাইলাম, সে নিবে না।বললাম কাকা অনেক ঘুরে আসছেন তো, বাণিজ্য মেলার কারনে রাস্তা বন্ধ ছিলো। সে মুখে যা বলসে তাই,এখন বেশি কেন নিবে? আল্লাহ তারে টাকা দেয় নাই, কিন্তু ছেলে মেয়েদের ইচ্ছা মতো ব্রেন দিয়ে দিসে,এতেই সে খুশি। বরং আমি এতো দূরে রিক্সা নিয়ে আসছি তাতেই উনি আমার প্রতি কৃতজ্ঞ

😊
No comments:
Post a Comment