চলমান তাবলীগ জামাত সংকট নিয়ে ভালো বিশ্লেষণ
গতকাল তাবলীগ জামাতের ভিতরগত কার্যকলাপের কারণে সাধারণ মানুষদের ভুক্তোভোগী হওয়ার ব্যাপারটা সত্যিকার অর্থেই দুঃখজনক এবং একইসাথে একরামে মুসলিমীনের বিরোধী। তাবলীগ সবাই করে না। তাবলীগের ইন্টার্নাল ম্যাটারে সবাই নাক গলাক এটা তাবলীগ ওয়ালারাও চায় না। বরং তাবলীগের বাহিরে থেকে তাবলীগের ব্যাপারে নসীহাপ্রসূত কোন মন্তব্য করবেন তাও সাদ গ্যাং হোক আর হক্কানী ওলামায়ে কেরামের লোকজন হোক তারা উভয়েই তাতে ষড়যন্ত্রের আভাস পায়। কিন্ত কালকে সম্পন্ন তাদের নিজস্ব ব্যাপার নিয়ে এয়ার্পোর্টের মত এক গুরুত্বপূর্ণ রুটে লাখ লাখ মানুষকে অযথা ভুগতে হয়েছে। আশ্চর্য ব্যাপার হল তাদের মধ্যে অনেকেই আবার এই ভোগানোর নামকে ইতিহাস সৃষ্টিকারী আন্দোলন হিসেবে সাব্যস্ত করছে ! এত লজ্জার উপর লজ্জা।
গডফাদারদের একটা সাধারণ বৈশিষ্ঠ্য হল এরা কারো নসীহা অনুসরণ করতে পারে না এমনকি তাদের কাছের লোকদেরও কথা বলতে হয় গডফাদারদের কথার অনুকরণে। তা ভালো হোক বা মন্দ হোক এটা মূল বিষয় নয় মূল বিষয় হল গডফাদার আমার কথায় সন্তষ্ট কিনা। মাওলানা সাদ দাবাং এর বর্তমান এই অবস্থানের পিছনে আমাদের সম্মানিত হক্কানি ওলামায়ে কেরামের বিশাল এক অবদান রয়েছে। সাদ এর ফ্রাঙ্কেস্টাইন রূপের পিছনে মূলত ওলামায়ে কেরামই দায়ী। তারা তা আজ স্বীকার করুক বা না করুক এতে কিছু যায় আসে না। মাওলানা সাদের প্রথম বয়ান শোনার সুযোগ হয় আমার ২০১০ সালের এজতেমা মাঠে। সেবারই এই ব্যক্তিকে কুরআন হাদিস এবং আকিদার উসূলের বাহিরে গিয়ে অসংখ্য বক্তব্য দিতে শুনেছি। যা নিঃসন্দেহে সন্দেহের সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে হক্কানি ওলামায়ে কেরামের নিকট এ সমস্ত বক্তব্য পেশ করা হলে তারা সাদের প্রতি দলগত ভালো ধারণার বশে সাদের ভূল বক্তব্য তাবীলের মাধ্যমে সঠিক বক্তব্যে রূপান্তর করে। সাদ সাহেব আসলে এই কথার মাধ্যমে আপনি যা বুঝেছেন তা বুঝায় নি বুঝায়েছে এটা। আসলে সাদ কি বুঝিয়েছে তা দেরী হলেও ওলামায়ে কিরাম আজ বুঝতে পারছেন। কিন্ত সময়ের এক ফোড় অসময়ের দশ ফোড়।
আরো আশ্চর্য ব্যাপার হত, যখন দেখতাম দেওবন্দ ফারেগ ওলামায়ে কেরামদের কে মাওলানা সাদের ভ্রষ্ট কথাসমূহকে হুবুহু নকল করে আওয়ামদের সামনে বয়ান দিতে। সালাফদের তাফসীর বাদ দিয়ে যখন বলতে শুনতাম , মাওলানা সাদ সাহেব এবারের এজতেমায় এই আয়াতের বহুত দামি এক তাফসীর প্রদান করেন তখন সত্যিকার অর্থেই তা বর্তমান সময়ের কওমি আলেমদের এলেমকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
ইন্ডিয়াতে যেরকম এলমের স্বাধীন অধ্যয়ন হয় তদ্রুপ বাংলাদেশেও এলমের স্বাধীন মেহনত হয়। কিন্ত কি এক অবস্থা দশ বারো বছর হয়ে গেল বাংলাদেশের কোন এক মাদ্রাসা থেকে সাদ সাহেবের বক্তব্যের কোন শরয়ী তাহকীক করতে পারেনি। যেই দেওবন্দ থেকে ফতওয়া আসল সেই তাদের টনক নড়ল। কিন্ত এত দিনে সাদের ভ্রষ্টতার শাখা প্রশাখা অনেক দূরে চলে গিয়েছে। বিশেষ করে সাদ যে কথা বলে সেই একই কথা আপনি মাওলানা আহমাদ শফী সাহেবের 'তাবলীগ এক অনন্য জিহাদ' কিতাবে পাবেন। যে সমস্ত ব্যাখ্যার সাথে সালাফদের বিন্দুমাত্র কোন সম্পর্ক নেই। এগুলো নিয়ে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আলেমদের নিকট গেলে তারা এ বলে ফিরিয়ে দিতেন যে, সাদ সাহেবের ভুল ধরবে তাদের ওলামায়ে কেরাম মাওলানা যুবায়ের সাহেব, রবীউল হক সাহেব এরা। কিন্ত এটা বুঝাতে অসমর্থ ছিলাম যে তারা কি ভুল ধরবে তারা নিজেরাই তো সাদ সাহেবের উর্দু বক্তব্যের অনুবাদক।
যেসমস্ত সদ্য দাওরা ফারেগদের কে হাদিস থেকে ভূল উসূল বের করে সালের জন্য বের করে দেওয়া হত তারাই আজ সাদের ফ্যান বয়। তারাই তাবলীগ জামাতের ভ্রষ্টতা কে আকড়ে ধরে আওয়ামদের নিকট পৌছিয়ে দেওয়ার পিছনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্ত ওলামায়ে কেরাম এগুলোর ব্যাপারে ছিলেন বেখবর। আজ তাদের বেখবরের ফলাফল নিজেরাই দেখে নিচ্ছেন।
আরেকটা ব্যাপার হল চাপাবাজি বেশিদিন টিকে না। আর আল্লাহর দ্বীনের কাজ নিয়ে চাপাবাজি তো টেকার প্রশ্নই উঠে না। এই তাবলীগ ওয়ালারাই সমস্ত মেহনেত কে ইগনোর করে যেভাবে প্রত্যেকটা কাজে একমাত্র এখলাসওয়ালা মেহনত, একমাত্র নবীওয়ালা মেহনত, এ কাজের মাধ্যমেই দ্বীনের জিন্দা হবে, এ কাজের মাধ্যমেই ফেতনা দূর হবে, ইত্যাদি একমাত্র যে নিকৃষ্ট চাপাবাজি ছিল তা আজ আল্লাহ তায়ালাই স্পষ্ট করে দিয়েছেন।
ওলামায়ে কেরামের এখন কি করা উচিত তা ওলামায়ে কেরামদেরই ভাবা উচিত। এই শিকড় কিভাবে তারা বের করবে সে চিন্তা তাদেরই। কিন্ত এই কাজের জন্য সাধারণ জনগণদের ভুক্তোভোগী করাটা অন্যায় হবে। আপনাদের অলসতা আর বেখেয়ালীর জন্য আওয়ামরা কেন ভুগবে । আওয়ামদের ঠেকা পড়ে নাই তাদের কাজকাম ফেলে আপনাদের সাথে গিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করবে।
No comments:
Post a Comment